ভাষা বদলি করুন

The Only way to stop any pain in your life is to accept the fact that nothing is yours, nothing was yours, and nothing will ever be yours. They are worldly attachments; given by Allah, belonging to Allah and returning beck to Allah.

July 30, 2017

আপনার ব্যক্তিত্ব বিকশিত করুন

                                                           ।। জাকারিয়া ইছলাম ।।







সবার ব্যক্তিত্বের বিকাশ একরকম নয়।অনেক তো এমন যে, এ ক্ষেত্রে তার কোন উন্নতিই নেই।চলছে তো চলছেই।এ রকম বিশ বছরের কোন যুবকের সাথে আপনি কিছুক্ষন বসলে দেখবেন তার নির্দিষ্ট লাইফ স্টাইল, বাচনভঙ্গি ও চিন্তাধারা রয়েছে। দশ বছর পর আবার তাকে দেখুন। দেখবেন, তার সার্বিক অবস্থা আগের মতোই রয়ে গেছে। তার কোন উন্নতি হয় নি। তবে এমন অনেক যুবকের দেখাও আপনি পাবেন, যাদের ব্যক্তিত্ব প্রতিদিনই বিকাশিত হচ্ছে। আগের দিনের চেয়ে পরের দিন তার ব্যক্তিত্ব উল্লেখযোগ্য হারে উন্নত চচ্ছে; বরং বলা যায় প্রতি মুহূর্তেই সে আত্মোন্নয়নের ধাপ অতিক্রম করে চলছে। এমন কেন হয়? বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। মনে করুন, দু’জন ব্যক্তি নিয়মিত টিভি দেখে। এদের একজন এমনসব প্রোগ্রাম দেখে যেগুলো তার চিন্তাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে ও মেধার বিকাশে সহায়ক হয় এবং জ্ঞানগর্ভ সংলাপ ও টকশো থেকে অন্যদের অভিজ্ঞতা সমূহকে জেনে তা নিজের জীবনে কাজে লাগায়। এর মাধ্যমে সে চমৎকার বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ভাষাগত দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা, প্রতুৎপন্নমতিত্ব ও বিতর্কের কলা-কৌশল আয়ত্ত করতে পারে।অপরপক্ষে দ্বিতীয়জন শুধু প্রেমকাহিনীর্ভর নাটক, সিরিজ, আবেগপূর্ণ ও এ্যাকশনধার্মী সিনেমা দেখে সময় কাটায়।

পাঁচ-দশ বছর পর দু’জনের চিন্তাধারা ও ব্যক্তিত্ব কেমন হবে? দু’জনের মধ্যে কার আত্মশক্তি বেশি সমৃদ্ধ হবে? জেনারেল নলেজের দক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পরিধি, অপরকে প্রভাবিত করার যোগ্যতা ও প্রতিকুল পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর সফলতার ক্ষেত্রে উভয়ের সক্ষমতা কি এক রকম হবে? কখনো নয়; বরং এসব ক্ষেত্রে প্রথমজনের দক্ষতা ও যোগ্যতা হবে দ্বিতীয়জনের তুলনায় অনেক বেসি ও ভিন্নধর্মী। দু’জনের কথাবার্তার ঢং ও উদ্ধৃতি দেয়ার পদ্ধতিও হবে ভিন্নরকম। প্রথম জন সটিক তথ্য ও পরিসংখ্যানের মাধ্যমে উদ্ধৃতি দেবে, আর অপর দিকে দ্ধিতীয় জন অভিনেতা ও নায়ক-নায়িকাদের সংলাপ ও গানের কলি দিয়ে উদ্ধৃতি দেবে।

এ ধরনের একজন ব্যক্তি একদিন আমার সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ বললো, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে বান্দা! তুমি চেষ্টা কর। আমিও তোমার সঙ্গে চেষ্টা করব’।

আমি তাকে সতর্ক করে দিয়ে বললাম, ‘ভাইজান, আপনি এটা কী বলছেন! এটা তো কুরআনের আয়াত তথা আল্লাহর কথা নয়’। আমার কথা শুনে লোকটার চেহারা বির্বর্ণ হয়ে গেল। সে একেবারে থ বনে গেল। পরবর্তীতে তার কথাটির উৎস নিয়ে আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম।আমার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো যে, এটা ছিল মিশরীয় একটি প্রবাদ বাক্য। যা কোনো ধারাবাহিক নাটক থেকে শুনে তার মনে গেঁথে গেছে। বাস্তত যে পাত্রে যা থাকে তা থেকে তাই ঝরে।

আরেকটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য, পত্র-পত্রিকা তো অনেকেই পড়েন কিন্তু কয়জন পাঠক এমন আছেন যারা উপকারী সংবাদ, তথ্যবহুল ফিচার ও সম্পাদকীয় কলাম পড়েন যা তাদের আত্মবিকাশ, দক্ষতাবৃদ্ধি ও প্রজ্ঞার উন্নইয়নে সহায়ক হতে পারে। এ ধরনের পাঠকের সংখ্যা খুবই কম। অথচ খেলার খবর ও বিনোদনের পাতা পড়ার মতো লোকের অভাব নেই। এ কারণেই পত্র-পত্রিকাগুলোতে বর্তমানে খেলার খবর ও বিনোদনের পাতার কলেবর বাড়ানোন প্রতিযোগিতা চলছে।

শুধু যে পত্র পত্রিকা পাঠের ব্যাপারে এ মনোভাব বিরাজ করেছে তা নয়; বরং আমাদের বিভিন্ন আলোচনার আসারগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।আমাদের সময় কাটানর ক্ষেত্রগুলোতেও অনুরুপ অবস্থা বিরাজমান। সব জায়গায় আমরা আহেতুক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকি।
আপনি যদি ‘লেজ’ না হয়ে ‘মাথা’ হতে চান, জীবনে বড় কিছু করতে চান তাহলে জীবনের প্রতি মূহূর্তে আপনাকে আত্মবিকাশে মনোযোগী হতে হবে। এজন্য আপনাকে প্রচুর অনুশীলন করতে হবে।

আব্দুল্লাহ নামে এক উদ্যমী ব্যক্তি ছিল। কিন্তু তার মধ্যে অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি ছিল। একদিন সে জোহরের নামায পড়ার জন্য মসজীদের উদ্দেশ্য রওয়ানা হলো। নামাজের প্রতি তার ছিল প্রচণ্ড আগ্রহ। দ্বীনের প্রতি সীমাহীন অনুরাগ তাকে মসজিদের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। পাছে জামাত মিস হয়ে যায় কি-না এ আশঙ্কায় সে দ্রুত হাটছিল। কিন্তু মসজিদে যাওয়ার পথে সে একজন লোককে দেখলো, লোকটি নারিকেল গাছের উপর বসে নারিকেলের কাঁদি ঠিক করছে। ভাবখানা দেখে মনে হচ্ছিল যে সে আযান শুনে নি কিংবা নামায পড়ার কোনো গরজ অনুভব করছে না। এটা দেখে তো আব্দুল্লাহ রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেল। সে ঝাঁঝালো স্বরে বললো, ‘এ বেটা! নামাযের জন্য তাড়াতাড়ি গাছ থেকে নেমে আয়’। লোকটি শান্তভাবে উত্তর দিল, ‘ঠিক আছে ভাই, আসছি,। আব্দুল্লাহ বললো, তাড়াতারি কর। বেটা গাধা কোথাকার!’ গাধা শব্দটি শোনার সাথে সাথে লোকটির মাথায় রক্ত উঠে গেল। সে রাগে নারিকেল গাছ থেকে একটি শাখা কেটে নিয়ে বললো ‘কী বললে আমি গাধা? একটু দাড়াও আমি তোমার বারোটা বাজিয়ে দেব

অবস্থা খারাপ দেখে লোকটি যেন তাকে চিনতে না পারে তাই সে রুমাল দিয়ে চেহারা ঢেকে মসজিদের দিকে দৌড় দিল । এদিকে লোকটি গাছ থেকে নেমে আব্দুল্লাহকে না পেয়ে বাড়ী চলে গেল এবং নামায পড়ে কিছুটা শান্ত হলো। হালকে বিশ্রাম নিয়ে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য আবার গাছে চড়লো।আসরের সময় আব্দুল্লাহ নামায পড়তে বের হলো। লোকটিও আগের মতই গাছের উপরে বসে কাজ করছিল। আব্দুল্লাহ এবার দাওয়াতের রীতি পরিবর্তন করে ফেললো। সে লোকটিকে সালাম দিয়ে বললো, ‘ভাইজান!কেমন আছেন?’
লোকটি বললো, আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।
এরপর আব্দুল্লাহ জিজ্ঞেস করলো, ‘এবছর ফসল কেমন হয়েছে?’
লোকটি বললো, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভাল হইয়েছে’।
এর জবাবে আব্দুল্লাহ লোকটির জন্য দোয়া করলো- ‘আল্লাহ আপনাকে তৌফিক দান করুন। আপনার ফল ও ফসলে বরকত দাঁন করুন। আপনার রিযিক বাড়িয়ে দিন। আপনার পরিশ্রমের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আপনার সন্তানদেরকেও অনুরুপ দান করুন। আব্দুল্লাহর দোয়া শুনে লোকটি খুশি হয়ে আমিন-আমিন বলতে লাগলো। এরপর তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো।
এরপর আব্দুল্লাহ বললো, মনে হচ্ছে, কাজের ব্যস্ততার কারনে আসরের আযান শুনতে পান নি। আসরের আযান তো হয়ে গেছে। একামতের সমইয়ও হয়ে গেছে। এখন একটু কাজে বিরতি দিয়ে নামাযটা পড়ে নিন। নামাযের পর অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে পারবেন । আল্লাহ আপনার শরীর সূস্থ রাখুন’। লোকটি খুশি হয়ে বললো, ইনশাআল্লাহ, ইনশাআল্লাহ,।
এরপর সে আস্তে আস্তে গাছ থেকে নামলো। নীচে নেমে সে আব্দুল্লাহর সঙ্গে করমর্দন করলো। এরপর বললো, ‘এমন চমৎকার ও অমায়িক ব্যবহারের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। তবে জোহরের সময় যে লোকটার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল তাকে ধরতে পারলে বুঝিয়ে তিতাম, গাধা কে?!’

আপনি অন্যদের সাথে যেমন আচরণ করবেন,
   অন্যরাও আপনার সাথে তেমন আচরণ করবে।   

No comments:

Popular Posts